উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি আরো শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, গতকাল রোববার বেলা ৩টায় সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরো পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে।
সতর্কবার্তায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য এখনো কোনো সতর্কবার্তা বা সংকেত জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, লঘুচাপটি পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ ওড়িশা-উত্তর অন্ধ্র উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও শেষ পর্যন্ত এটি কতটা শক্তিশালী হবে বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। এরপরও ভারত এ বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নাজমুল হক বলেন, গাণিতিক মডেল অনুযায়ী লঘুচাপটির প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশে পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, সিস্টেমটি ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক বিষয় হওয়ায় একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আজ সোমবার নাগাদ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে তা প্রথমে ওড়িশা উপকূলের কাছে তৈরি হয়ে ভারতেই আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া দপ্তর ও সরকার কীভাবে কাজ করে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানান, কোনো সিস্টেম ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে আবহাওয়া দপ্তর সরাসরি ৪ নম্বর সতর্কবার্তা জারি করে। এরপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় ও উপকূলীয় জেলা প্রশাসকদের নিয়ে জরুরি সভা ডেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।



