ওশানটাইমস ডেস্ক : ১ জুন ২০২৬, সোমবার, ১০:০৯:৪১

ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। আনন্দ, হৈ-হুল্লোড় আর সাগরের নোনাজলে মাতোয়ারা ভ্রমণপিপাসুরা। সমুদ্র তীর যেন হয়ে উঠেছে সব বয়সি মানুষের মিলনমেলা। এবার ঈদুল আজহায় মুসলমানরা পশু কোরবানি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটানোয় ভিন্ন ধর্মাবলম্বী পর্যটকরা কক্সবাজারে ভিড় করেছেন বেশি।
ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গেল পাঁচ দিনে অন্তত পাঁচ লাখ ভ্রমণপিপাসু কক্সবাজারে জড়ো হয়েছেন। গত শুক্র, শনি ও রোববার সমুদ্রসৈকত ঘুরে দেখা যায়, সাগরের ঢেউ আর নোনাজলের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন হাজার হাজার পর্যটক। তীব্র গরমে স্বস্তির খোঁজে কেউ নামছেন সমুদ্রস্নানে, কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করছেন সৈকতের সৌন্দর্য।
শুধু সমুদ্রস্নানই নয়, সৈকতের বালিয়াড়ি, কিটকটসহ বিনোদন স্পটজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। ঈদের দীর্ঘ ছুটি ঘিরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো সৈকত এলাকা। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।
বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজশাহী থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আবিদুর রহমান বলেন, সমুদ্র খুবই ভালো লাগে। ঈদের ছুটিতে ভাইবোনদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে সময় কাটাতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
আরেক পর্যটক মামুনুর রশিদ বলেন, শহরের ব্যস্ত জীবনে প্রকৃতিকে কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ খুব কমই মেলে। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। তিনি বলেন, সমুদ্রের গর্জন, শীতল বাতাস, মনোরম আবহাওয়া ও বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে আমরা দারুণ আনন্দ উপভোগ করছি।
রাজিয়া সুলতানা জানান, সমুদ্রসৈকতে ঘোড়ায় চড়া ও পানিতে খেলাধুলা করতে তার ভীষণ ভালো লেগেছে।
কবির আহমেদ বলেন, কক্সবাজারে সময়টা খুবই আনন্দময় কাটছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সমুদ্রের শীতল পরিবেশ ও বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে বেশ স্বস্তি পাচ্ছি।
সরেজমিনে দেখা গেছে সমুদ্র তীরে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। এ ভিড়ের মাঝে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তৎপর ছিল ট্যুরিস্ট পুলিশ। একইসঙ্গে উত্তাল সাগরে নিরাপদ গোসল নিশ্চিতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন লাইফ গার্ড কর্মীরা।
সী-সেফ লাইফ গার্ডের সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন ভুট্টো সাংবাদিকদের বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরো বাড়বে। তার মতে, বর্তমানে সমুদ্র বেশ উত্তাল এবং বড় বড় ঢেউ দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় লাইফ গার্ড কর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন, তিনটি সৈকত এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, পাশাপাশি পেট্রোল টিম নিয়মিত টহলে রয়েছে। যেসব স্থানে পানির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে রেসকিউ বোর্ডসহ অতিরিক্ত লাইফ গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সৈকতের লাবণী, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ট্যুরিস্ট স্কোয়াডের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), মোবাইল টিম ও স্ট্যান্ডবাই টিম কাজ করছে। কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
For add