ওশানটাইমস ডেস্ক : ৩ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১২:০৭:১২

প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের মধ্য দিয়ে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। মঙ্গলবার ভোরে রাজ্যের ওঙ্গোলের কাছে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ভোর সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ওঙ্গোলের কাছে এটি আঘাত হানে।
স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। তবে দমকা হাওয়ার কারণে সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় আট কিলোমিটার গতিতে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে এটি শক্তি হারিয়ে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর রাতের মধ্যে আরও দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো বাতাস অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রের স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় এক থেকে দেড় মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ পরিস্থিতিতে বাপাতলা, কৃষ্ণা ও প্রকাশম জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনটিআর জেলার কালেক্টর লক্ষ্মীশা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এখন পর্যন্ত জেলায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। তবে ভূমিধসের আশঙ্কায় মোগলরাজপুরম এলাকার কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সবাইকে ঘরে অবস্থান করা, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং শিশুদের নিরাপদে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি।
For add