ওশানটাইমস ডেস্ক : ১২ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ৭:২৪:৩৪

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় প্রবাহিত তুরাগ নদ মারাত্মক দূষণের কবলে। এক সময়ের প্রাণবন্ত নদে এখন কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। নদের বুক জুড়ে ভাসছে শিল্পকারখানার বর্জ্য, প্লাস্টিক ও নানান ধরনের আবর্জনা। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি আর নদ হিসেবে পরিচিত নয়, বরং একটি দূষিত খাল বলেই মনে হয়।
এ নদ দিয়ে একসময় রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হতো। টঙ্গী অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশেও এই নদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় নদটির স্বাভাবিক পরিবেশ বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ—টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরী ঘিরে গড়ে ওঠা অসংখ্য ডাইং, ওয়াশিং ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পকারখানা থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্যই তুরাগ দূষণের প্রধান কারণ। শিল্প এলাকার ড্রেনেজ লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি নদে গিয়ে পড়ছে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী প্রতিটি কারখানায় বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি চালু থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অকার্যকর বা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদের পানি অনেক স্থানে ঘন কালচে রং ধারণ করেছে এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও নদে মাছ ধরা, গোসল কিংবা নৌকা চলাচল ছিল স্বাভাবিক দৃশ্য। এখন পানির দূষণের কারণে মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং নদের কাছাকাছি অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
টঙ্গীর দীর্ঘদিনের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শৈশবে তুরাগ ছিল এলাকার মানুষের জীবনের অংশ। নদে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত এবং মানুষ স্বাভাবিকভাবেই নদের পানি ব্যবহার করত। বর্তমানে নদের পানির গন্ধ এতটাই তীব্র যে, সেখানে দাঁড়ানোই দায় হয়ে গেছে।’ তার ভাষায়, নদটি যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নদের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে জলজপ্রাণী টিকে থাকতে পারে না। একই সঙ্গে নদের তলদেশে জমে থাকা ভারী ধাতু ও বিষাক্ত পদার্থ দীর্ঘ মেয়াদে কৃষিজমি ও ভূগর্ভস্থ পানির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে বিসিক শিল্পনগরীর সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, ‘পরিবেশবিধি মেনে চলতে কারখানাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
For add