কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ফুটবল আনতে গিয়ে পর্যটকের মৃত্যু, আহত দুই

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ফুটবল খেলতে গিয়ে সাগরে নেমে নিখোঁজের আড়াই ঘন্টা পর মোফাজ্জল ইমাম সীমান্ত নামের এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোফাজ্জল ইমাম সময় সীমান্ত কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈকত কর্মীদের ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান জানান, ‘সন্ধ্যায় ৯ বন্ধু মিলে সৈকতে গোসলে নামেন। সেখানে ফুটবল নিয়ে খেলছিল তারা। এক পর্যায়ে ফুটবলটি সমুদ্রে ভেসে গেলে সেটি আনতে যান মোয়াজ, তুর্য ও সীমান্তসহ তিন বন্ধু তা আনতে পানিতে নামেন।এসময় তিনজনই ভেসে যান।

পানিতে নামার পর জোয়ারের ঢেউ ও তীব্র স্রোতের কারণে তিনজনই বিপাকে পড়েন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের অন্য বন্ধুরা এবং বিচ কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে মোয়াজ ও তুর্যকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সীমান্ত সাগরে নিখোঁজ হন।

তিনি আরও জানান, ‘নিখোঁজের আড়াই ঘন্টা পর মোফাজ্জল ইমাম সীমান্তের মরদেহ সুগন্ধা পয়েন্টের অদুরে গ্রীন নেচার অংশে ফায়ার সার্ভিস, সী-সেইফ লাইফগার্ড ও সৈকত কর্মীরা উদ্ধার করে। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ দুর্ঘটনায় আহত দুইজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বিকেল ৫টার পর সমুদ্রে নামার ওপর জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং লাইফগার্ড সেবা বন্ধ থাকার পরও পর্যটকরা পানিতে নামায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সি সেফ লাইফগার্ড সংস্থা।

সংস্থাটির সুপারভাইজার মো. ওসমান বলেন, সন্ধ্যার পর সাগরে গোপন চ্যানেল ও গভীর খাদ তৈরি হয়। আলো কমে যাওয়ায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পানিতে থাকা অবস্থায় সহজে দেখা যায় না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পর্যটকরা পানিতে নামায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সি সেফ লাইফগার্ডের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পানিতে নেমে ৮ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ১৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর ওশানটাইমস.কম গুগল নিউজ চ্যানেলে।

oceantimesbd.com