নাটোরের হালতি বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটক

বর্ষা এলেই যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বিস্তীর্ণ হালতি বিল। চারদিকে থই থই পানি, দিগন্তজোড়া জলরাশি আর নীল আকাশের মিতালি- সব মিলিয়ে হালতি বিল এখন পরিণত হয়েছে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রে।

হালতি বিলের বুকজুড়ে পানি আর পানির ওপর ছোট-বড় নৌকার ছুটে চলা। কোথাও জেলেরা মাছ ধরছেন, কোথাও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরছেন দর্শনার্থীরা। আর বিকেল গড়াতেই হালতি বিলের সৌন্দর্য যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

দূর থেকে তাকালে মনে হয়, আকাশ আর পানির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বাতাসে পানির ঢেউ, নৌকার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে দর্শনার্থীদের বিমুগ্ধ করে।

পর্যটকদের চোখে হালতি বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নাটোরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউবা প্রিয়জনকে নিয়ে নৌকায় ঘুরে উপভোগ করছেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য।

রিফাত নামে নাটোর শহর থেকে যাওয়া একজন দর্শনার্থী বলেন, ‘হালতি বিলের পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। নৌকায় ঘুরতে খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে বিকেলের দৃশ্যটা সবচেয়ে বেশি সুন্দর।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইফুল ইসলাম নামে একজন দর্শনার্থী বলেন, ‘পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি। এত সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ আগে কাছ থেকে দেখা হয়নি। এখানে পর্যটকদের জন্য ভালো ব্যবস্থা করা হলে আরও বেশি মানুষ আসবে।’

শফিকুল ইসলাম নামে একজন দর্শনার্থী বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে অনেক ভালো লাগছে। ছবি তোলার জন্য জায়গাটা দারুণ। তবে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুব জরুরি।’

হালতি বিলকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও রয়েছে নানা প্রত্যাশা। তাদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে হালতি বিল হতে পারে নাটোরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। এতে যেমন পর্যটক বাড়বে, তেমনি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ও বাড়বে।

খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বর্ষার সময় এখানে অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। পর্যটকদের জন্য যদি ভালো নৌঘাট, বসার জায়গা, খাবারের ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে হালতি বিল আরও জনপ্রিয় হবে।’

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল এমরান খান বলেন, ‘হালতি বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের হয়রানির বিষয়টি মাথায় রেখে নৌকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক সুমনী আকতার জানান, নাটোরের পর্যটন স্থানগুলো নিয়ে একটি পর্যটন হাব গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।

সর্বশেষ খবর ওশানটাইমস.কম গুগল নিউজ চ্যানেলে।

oceantimesbd.com