ওশানটাইমস ডেস্ক : ৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার, ১১:২৮:৪৩

টানা চার দিন ধরে বঙ্গোপসাগর উত্তাল। গভীর সমুদ্রে হঠাৎ হঠাৎ তৈরি হচ্ছে বিশাল ঢেউ। বৈরী আবহাওয়ায় সেই ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জেলে জাল গুটিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছেন। শত শত মাছ ধরার ট্রলার এখন উপকূলে নিরাপদে নোঙর করে অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ১২ জুন থেকে সমুদ্রে মাছ ধরা শুরু হলেও জেলেদের জীবনে স্বস্তি ফেরেনি। এক মাস না পেরোতেই বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া শুরু হয়। ফলে অনেকেই সমুদ্রে যেতে পারেননি। আর যারা ঝুঁকি নিয়ে গেছেন, তারাও উত্তাল সাগরে ঠিকমতো জাল ফেলতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরেছেন।
জেলেদের অভিযোগ, বছরের বেশিরভাগ সময়ই কোনো না কোনো কারণে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। কখনও সরকারি নিষেধাজ্ঞা, কখনও নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় বা বৈরী আবহাওয়া। ধারদেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যাপ্ত মাছ পাবেন জেলেরা। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, জেলেরা যেভাবে সরকারি আইন মেনে মাছ ধরছেন, তাতে আবহাওয়া অনুকূলে এলে তারা পর্যাপ্ত ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ধরতে পারবেন এবং তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
মা ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা রক্ষা এবং সামুদ্রিক মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য সরকারের বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে পটুয়াখালীর উপকূলে বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ২৭০ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এতে একদিন মাছ ধরতে না পারলেই যেসব জেলে পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলে না, সেই পরিবারগুলোই এখন বছরের অধিকাংশ সময় কর্মহীন থাকছেন। একদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ; সব মিলিয়ে জীবিকার অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে উপকূলের হাজারো জেলে পরিবারের।
For add