যেভাবে ধ্বংস হতে পারে সমুদ্র

সমুদ্র, নীল জলরাশি কার না পছন্দ? যেখানে বাস করে ডলফিন, হাঙ্গর, সামুদ্রিক কচ্ছপ, কোরাল, তরঙ্গ সহ অসংখ্য জলজ প্রাণী ও সামুদ্রিক মাছ। পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখতে যাদের অবদান অসামান্য। কিন্তু সেই জলরাশি যদি পড়ে দূষনের কবলে তাহলে বাচবে কীভাবে সেইসব প্রাণী? এই দূষণ জলজ প্রাণী এমনকি পৃথিবীর মানুষের জন্যেও একটি বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সমুদ্র দূষণের জন্য অন্যতম দায়ী ফোম বা প্লাস্টিক ফোম। বৈজ্ঞানিকভাবে অবশ্য এটি এক্সপেন্ডেড পলেস্টিরিনি নামে পরিচিত যার ব্যান্ড নেম স্টিরোফোম।

কোথায় থাকে এই ফোম?
আপনি যদি একবার প্লাস্টিক ফোম খুঁজতে শুরু করেন আশেপাশে, কর্মস্থল বা ঘরবাড়ি সর্বত্রই এই ফোম দেখতে পাবেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম ফুডওয়ার, ফিশিং ও নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিক।

এই প্লাস্টিক বিভিন্ন উৎস থেকে নদ নদীর মাধ্যেম বা কখনো কখনো সরাসরি সাগর-মহাসাগরে পৌছে যায়। সমুদ্রে প্লাস্টিকের একটা বড় অংশ চলে যায় মাছ ও পাখির পেটে। এছাড়াও সাগরের তলদেশে আরো যেসব প্রাণী আছে সেগুলোর পেটেও পাওয়া গেছে প্লাস্টিকের টুকরো।

১৯৮৬ থেকে ২০২২, ৩৬ বছরে সমুদ্র থেকে ৮.৭ মিলিয়ন ফোমের কাপ, প্লেট ও ব্যবহৃত পাত্র উদ্ধার করেছে ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ তথা আইসিসি এর স্বেচ্ছাসেবীরা। ওয়াশ কনজারভেন্সির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার টেকআউট ও খাবার ডেলিভারির ২২ শতাংশতেই ফুডওয়ার ফোম থাকে। আর বছরে ৫.৬ বিলিয়ন পিচ প্লাস্টিক ফোম ব্যবহার করে আমেরিকানরা যার মধ্যে আড়াই বিলিয়ন পিচ পুনঃ প্রক্রিয়া করন প্রক্রিয়াকেই দূষিত করে।

তবে আশার বিষয় হলো বর্তমানে তিন-চতুর্থাংশ আমেরিকান প্লাস্টিকের উদ্বিগ্ন, এমনকি অর্ধেকের বেশি জাতীয় পর্যায়ে প্লাস্টিক নিষিদ্ধের পক্ষে মত দেবে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সমুদ্র দূষণ রোধে এগিয়ে আসতে হবে সকলের। মানুষের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই দূষণমুক্ত সমুদ্র তথা একটা সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে পারবে।

সর্বশেষ খবর ওশানটাইমস.কম গুগল নিউজ চ্যানেলে।

oceantimesbd.com