নজরুল ইসলাম : ৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৫:৪৭:৫৮
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ও নিচু এলাকার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নলকূপের পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নলকূপে সামান্য পানি উঠলেও তা ব্যবহারযোগ্য নয়। অনেক নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন মিশে রং হয়ে যাচ্ছে গাঢ় লালচে পান করার তো প্রশ্নই ওঠে না, দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফাল্গুন শেষ হয়ে চৈত্র মাস আসতে চলেছে, কিন্তু বৃষ্টির কোনো লক্ষণ না থাকায় খরার প্রবলতা আরও বেড়েছে। ফলে পানির স্তর দ্রুত নিচে নামছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের মানুষ এ দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোহাজুড়ি ছড়ারপার, লাউড়েরগড়, ঢালারপাড়, রাজারগাঁও, কামড়াবন্দসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামেও একই ধরনের পানিসংকট চলছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, যাদুকাটা নদীর পাড়বর্তী অঞ্চলগুলোতে এমনিতেই স্বল্প গভীরতায় টিউবওয়েলে পানি ওঠে না। তার ওপর এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাঠে ধান চাষের পাশাপাশি এ বছর অনেক কৃষক ব্যাপকভাবে ভুট্টার চাষ করেছেন। প্রতিটি ক্ষেতে আলাদা সাবমার্সিবল নলকূপ দিয়ে পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ নির্দিষ্ট স্তরে পানির চাপ কমে গিয়ে সাধারণ নলকূপগুলোতে পানি না ওঠার প্রবণতা বেড়েছে। এতে করে ঘরের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পানি তুলতে দীর্ঘক্ষণ সময় দিতে হচ্ছে, দূর থেকে পানি এনে রান্না-বান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া সবই কঠিন হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আল আমিন সিকদার বলেন, “আমরা এমনিতেই অবহেলিত অঞ্চলের মানুষ। নানান সমস্যার মধ্যে পানীয় জলের সমস্যা আমাদের জীবনযাত্রার ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে। যে পানি ওঠে তার রং লাল, পান করার অযোগ্য।”
রাজারগাঁও গ্রামের গৃহিণী ননীবালা রায় বলেন, “টিউবওয়েল চাপতে চাপতে কোমর বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। থালা-বাসন আর কাপড় ধোয়ার জন্য প্রায় এক মাইল দূরের নদীতে যেতে হয়, যা আমাদের জন্য অনিরাপদ। আমাদের কিছু গভীর নলকূপ খুব প্রয়োজন।”
লাউড়েরগড় গ্রামের শহিনুর জানান, “প্রয়োজনীয় টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য মেম্বারদের পেছনে দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ হচ্ছে না। আমাদের দুঃখ কেউ বোঝে না।”
কামড়াবন্দ গ্রামের দিলোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের গ্রামের প্রায় ৫০টি টিউবওয়েলে পানি আসে না। কয়েকটি মৌসুমি টিউবওয়েল পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। কয়েক বছর ধরে আমরা এই কষ্টে আছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানির সংকট নিয়ে তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত সমস্যার কার্যকর সমাধান এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পানি সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পাঠিয়ে পানির স্তর (লেয়ার) নিচে নেমে গেছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণ আছে—তা খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। আপাতত বরাদ্দ না থাকায় নলকূপ দেওয়া যাচ্ছে না। বরাদ্দ আসা মাত্রই ওইসব এলাকায় প্রয়োজনীয় নলকূপ দেওয়া হবে।”
সর্বশেষ খবর ওশানটাইমস.কম গুগল নিউজ চ্যানেলে।
Tags: ওশানটাইমস, সুনীল অর্থনীতি
For add