ওশানটাইমস ডেস্ক : ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১২:১১:০৮

সুন্দর্য ও পর্যটনের লীলাভূমি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন পরিণত হয়েছে এক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। সমুদ্রের ভাঙনে বিভিন্ন স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট, লোহার অংশ ও অবকাঠামোর ধ্বংসাবশেষ সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। জোয়ারের সময় এসব কংক্রিট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে উপকূলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত ‘সিকদার রিসোর্টের বিচ বার’ নামের একটি স্থাপনা ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয়। তবে সেই স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট এখনো অপসারণ করা হয়নি।
১০০ ফুট নিচে নেমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকশ মিটার এলাকাজুড়ে সমুদ্রের একাংশে ৩ হাজার ৬৩০ স্কয়ার ফুট জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছিল কুয়াকাটার একটি হোটেল। পরে ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল এলাকাটি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের উপকূলীয় ভাঙনে উদ্যানের বড় অংশ সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর টয়লেট, রান্নাঘর, টিউবওয়েল, গোসলখানা, বৈদ্যুতিক সুইচ ও ফাউন্ডেশনের কংক্রিট এখনো সৈকতে পড়ে রয়েছে। জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকলেও কিছু অংশ ওপরে উঠে থাকায় চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় জেলে করিম হাওলাদার বলেন, “জোয়ারের সময় ভাঙা অংশগুলো দেখা যায় না। ফলে পা কেটে যায়। যারা এখানে নতুন, তারা বুঝতেই পারে না। এগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা দরকার।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহাগ হোসেন বলেন, “জোয়ারের সময় পুরো বিচ পানির নিচে ডুবে থাকে। তখন কোথায় কী আছে বোঝা যায় না। ‘উঠান’ নামে এক মোটরসাইকেল চালক পর্যটক আনতে গিয়ে কংক্রিটে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা দ্রুত এগুলো অপসারণের দাবি জানাই।”
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জাইফা বলেন, “আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গোসল করতে নেমেছিলাম। পানির নিচে থাকা কংক্রিটে একজনের পা কেটে যায়। তখন বুঝতে পারি সৈকতটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি থাকলে মানুষ এখানে আসতে ভয় পাবে।”
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক (উপকূল) আবুল হোসেন রাজু বলেন, “সমুদ্রতটে বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর কংক্রিট ধীরে ধীরে বালির নিচে চাপা পড়ে। কিন্তু পুরোনো কংক্রিট কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। ভবিষ্যতে এগুলো আরও ভয়ংকর ‘ট্র্যাপ’ বা ফাঁদে পরিণত হতে পারে। এটি শুধু ভ্রমণকারীদের জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।”
বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
কলাপাড়া পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, “বিচ এলাকায় কিছু কংক্রিট পড়ে থাকার বিষয়ে আমরা অবগত। দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাওছার হামিদ জানান, “সৈকতে পড়ে থাকা কংক্রিট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অপসারণের বিষয়ে আমরা পর্যটন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ এই সৈকতকে নিরাপদ রাখতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কংক্রিট অপসারণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও সচেতন মহল।
For add