ওশানটাইমস ডেস্ক : ৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ২১:৩৮:১৩

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মোড় নিল পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর ইরান তাদের প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি সীমিত সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণাও দিয়েছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের আক্রমণ বন্ধ করা হয়, তবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরোধমূলক অভিযান বন্ধ রাখবে। এই ঘোষণাকে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ। ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো ধরনের হুমকি বা আক্রমণ অব্যাহত থাকলে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠবে। অর্থাৎ, যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের আচরণের ওপর।
একইসঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের জন্য এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে হলে কিছু শর্ত মানতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং নির্ধারিত কারিগরি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, অন্যদিকে তা ইরানের কৌশলগত অবস্থানকেও তুলে ধরে। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল পরিবহন হয়, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘোষণার পেছনে কূটনৈতিক তৎপরতারও বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ চলছিল, যার প্রেক্ষাপটেই ইরানের এই ইতিবাচক সাড়া এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বাস্তব আচরণ ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর। সামান্য বিচ্যুতিও পরিস্থিতিকে আবার সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণের তথ্য বলছে, যুদ্ধের আগে যত জাহাজ চলাচল করত, এখন তার মাত্র পাঁচ শতাংশ পার হতে পারছে।
তবে কিছু ট্যাংকার চলাচল করতে পেরেছে। পাকিস্তান ও ভারত তাদের পতাকাবাহী কিছু জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানের সঙ্গে আলাদা চুক্তি করেছে।
তবে আজ থেকে হরমুজ প্রণালিতে শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচল করতে পারবে। সেক্ষেত্রে ট্রানজিট ফি গুণতে হবে সবাইকে। ইরান এই ফি নেবে, সঙ্গে থাকবে ওমানও।
জানা গেছে, ইরান প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নিচ্ছে। তবে কোনো জাহাজ মালিক এই ফি দিয়েছেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
For add