ওশানটাইমস ডেস্ক : ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার, ১০:১৯:০৮

তীব্র ডিজেল সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে মৎস্য খাত। ঈদের লম্বা ছুটির পর সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন চরফ্যাশনের উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক জেলে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সংকটে আর সাগরে যাওয়া হয়নি। পাঁচ-ছয় দিন ধরে দেশের অন্যতম দ্বিতীয় বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ মাছঘাটে বসেই বাজার-সওদা শেষ করেছেন তারা। কবে নাগাদ তেলের যোগান পাবেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। যেখানে প্রতিদিন শত শত মাছভর্তি ট্রলারের ভিড় থাকত, সেখানে এখন নেমে এসেছে অচলাবস্থা।
ডিজেলের সংকটের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ও চরফ্যাশনের উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে মাছ আহরণ ৭০–৮০ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি করেছেন জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে সাগর উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যবন্দর ও মোকামগুলোতে প্রায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে জেলে, স্থানীয় ব্যবসায়ী, আড়তদার, পাইকার, শ্রমিকসহ মৎস্য পেশার ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হচ্ছে টানা ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, প্রজনন নিশ্চিত করা ও টেকসই আহরণের লক্ষ্যে এ সময় বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। জ্বালানিসংকটের ভোগান্তি কাটতে না কাটতেই এই দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা। সামনে পাওনাদারদের চৈত্রের হিসাব-নিকাশ মেটানোর তাগাদা। মুদি থেকে শুরু করে বাকি ধার-দেনার শেষ নেই। বহু জেলে এখন ট্রলার ছেড়ে বদলি-কামলা দিচ্ছেন। স্থানীয় পাম্পে পরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে তেল দেওয়া হচ্ছে, তবুও চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।
উপজেলার সামরাজ মাছঘাটে এফভি ‘মা-বাবার দোয়া’ ট্রলারের মালিক মো. ছলাউদ্দিন জানান, এক সপ্তাহ সাগরে থাকতে ১,০০০ থেকে ১,২০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু তিনি মাত্র ৩০০ লিটার নিয়ে গিয়ে দুই দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে বাধ্য হন। বর্তমানে ডিজেল না পেয়ে ট্রলার, ১৮ জন মাঝিমাল্লাসহ তেতুলিয়া নদীর পাড়ের মায়া নদীর ঘাটে নোঙর করে আছেন। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের ভরণপোষণও তাকেই করতে হচ্ছে।
চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আজ্জি পাটোয়ারি জানান, এখানে দৈনিক ৩০–৩২ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৫৫–৬০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর এক-দশমাংশও সরবরাহ নেই। ফলে জেলে পেশায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে অন্তত চার হাজার জেলে পরিবার শুধুমাত্র সামরাজ এলাকায় বেকার বসে দিন কাটাচ্ছে। পাথরঘাটা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে কিছু ট্রলার সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছে এবং অল্প পরিমাণ মাছ নিয়ে ফিরে আসছে। এছাড়া স্থানীয় অধিকাংশ ট্রলার ঘাটে বাঁধা রয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকট সহসা কাটবে—এমন আশার কথাও কেউ বলতে পারছেন না।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, জ্বালানিসংকটে উপজেলাটিতে মাছ আহরণ ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা জ্বালানি তেলের নিশ্চয়তা চেয়েছেন এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেন জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা সঠিকভাবে বিতরণের জন্য তারা সর্বাত্মক সচেষ্ট রয়েছেন।
For add